আহা শৈশব আমাদের। গ্রামের বাড়িতে ভাই, বোন, বন্ধুদের সানিধ্যে কাটানো আমার দিনগুলো জীবনের সবচে সুন্দর দিন। আমি যে তন্নির গল্প বলছি সে এখন ক্লাস ৬ এ পড়ে। আর আমি যে সময়ের স্মৃতি চারণা করছি সেটা তন্নির ৪/৫ বছর বয়সের গল্প। আমি তখন অনার্স শেষ বর্ষ পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে এসেছি। আমাদের দৈনন্দিন কাজ হল বইপড়া, টিভি দেখা আর হ্যাঁ অবশ্যই সেটা নাটবল্টূ, গোপাল ভাঁড় অথবা নিক্স এর মতো কার্টুন দেখা। সারাদিন টিভিতে চলতে থাকে সনি ৮। কেননা আমাদের ২ জনের প্রিয় চ্যানেল এটি।
আমাদের সন্ধ্যা কাটত গল্পের আসর দিয়ে। তন্নি তখন আধো আধো উচ্চরনে বাংলা বলতে শিখেছে। ব্যাপারটা এমন যে আমি একটি গল্প ওকে বলবো এবং সেও আমাকে একটি গল্প বলবে। এই গল্পের আসরে একটি বিশেষ ব্যাপার এই যে আমি নতুন নতুন গল্প বললেও তন্নি আমাকে প্রতিদিন একটি গল্পই শোনাত। গল্পটা অনেক সুন্দর। চলুন গল্পটা বলি।
দুটি শেয়াল বন্ধু পাতিয়েছে। একদিন তারা পরিকল্পনা করলো যে তারা পিঠা খাবে। এখন উপায় কি? তারপর দুজনে মিলে চালের গুঢ়া, পিঠার ছাচ, লাকড়ি সমস্তই জোগাড় করে পিঠা তৈরি করলো, মজার মজার পিঠা। দুজনে পেট পুরে পিঠা খেলো। তারপর দুই বন্ধু বাড়ি চলে গেলো।
হ্যাঁ এটাই সেই বিখ্যাত গল্প। আধো আধো গলায় বলা তন্নির এই গল্প হয়তো সবার কাছে সাধারণ মনে হতে পারে কিন্তু আমার কাছে এটা শুধু একটা গল্প নয়। একটি সংকল্প, একটি বন্ধুত্তের সেরা ইতিহাস। জীবন সুন্দর, তাই সময়ের কিছু মহামূল্যবান গল্প, স্মৃতি আঁকড়ে বাঁচি।

